সারাবিশ্বে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস ৩৭ হাজারের বেশি প্রাণ কেড়েছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৫৮২ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৮২ হাজার ৩৬৫ জন। এদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৬ জন।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে।
চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৪৮ জনের। তবে মৃতের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯১। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৭৩৯ জন।
মৃতের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪০। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ১৯৫।
স্পেনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চীনে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে চীনের বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনা সম্পন্ন যেকোন মানুষ এই সংখ্যায় (সরকারি পরিসংখ্যান) সন্দেহ প্রকাশ করবে।’
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সংক্রমণ গোপন না করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াচিয়াম।
গত ২৩ মার্চ কর্মকর্তাদের প্রতি দেওয়া তার এ সংক্রান্ত ভাষণ পর দিন ২৪ মার্চ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। লি খোয়াচিয়াম বলেন, স্বচ্ছতার মানে হচ্ছে নতুন কেউ আক্রান্ত হলে অবশ্যই তা রিপোর্ট করা উচিত। যা ঘটেছে তা-ই বলা উচিত। কোনও কিছু অবশ্যই ধামাচাপা দেওয়া হবে না।