মরণঘাতি করোনা ভাইরাস শনাক্তকারী কিট উৎপাদন ও সরবরাহের অনুমোদন পেয়েছে দেশীয় চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বিশেষজ্ঞ গবেষকরা এই কিট উদ্ভাবন করেছে। তারা এর উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসনের কাছে আবেদন করে। বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ দল সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে
পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা.
জাফরউল্লাহ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবন করেছে।
তিনি
আরো জানান, তাদের বিশেষজ্ঞ গবেষকদের একটি টিম এটি উদ্ভাবন করতে সক্ষম
হয়েছে এবং এ কিট অনুমোদনের জন্য তারা বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসনের কাছে
আবেদন করেছে। অনুমোদন পেলে তারা ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে
পারবে। তাদের উদ্ভাবিত কিট দিয়ে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার মতো সহজেই করোনা
শনাক্ত করা যাবে। গণস্বাস্থ্যের এ টেস্টিং কিট পাইকারি দামে প্রতিটি ২০০
টাকায় বিক্রি করা যাবে। তবে সরকারকে নির্ধারণ করে দিতে হবে যাতে এটি
ব্যবহারকারীদের পর্যায়ে ৩০০ টাকার বেশি না পড়ে।
অনুমোদন পাওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিকেলে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অবজারভার অনলাইনকে বলেন, দুপুরেই আমরা সরকারের অনুমোদন পেয়েছি। আগামী ১০ -১২ দিনের মধ্যেেই যুক্তরাজ্য থেকে কাঁচামাল দেশে পৌঁছাবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা কিট উৎপাদনে যাব।
তিনি আরো জানান, কিট উৎপাদনের কাঁচামাল কেমিক্যাল রিএজেন্টগুলো সহজলভ্য না। এগুলো পাওয়া যায় সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা ও ব্রিটেনে। চীনের কাছেও আছে। তবে চীন বাণিজ্যিকভাবে কিট উৎপাদনের জন্যে এখন কাঁচামাল বিক্রি করবেনা বলে জানিয়েছে। এজন্যই যুক্তরাজ্য থেকে কাঁচামাল আনার উদ্যোগ নিয়ে আবেদন করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে রিএজেন্ট আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রিএজেন্টগুলো শুধুমাত্র প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া পদ্ধতিটির কার্যকরিতা প্রমাণের পর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের ল্যাব ও ক্লিনিকগুলোতে সরবরাহ করা যাবে।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফসল। এর মালিক
বাংলাদেশের জনগণ। আমেরিকার একটি সংস্থা আমাদের জানিয়েছে তারাও আমাদের উদ্ভাবিত এই ‘র্যাপিড ডট ব্লট’ উৎপাদন করবে।
ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, খুশির খবর হচ্ছে, আমরা এখন নিজেদের প্রয়োজনে আগে নিজেদের উৎপাদন ব্যবহার করতে পারব। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করলে দেশে কিট নিয়ে কোনো সঙ্কট থাকবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআর জানায়, দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রন্ত হয়েছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭ জনে।
এইচএস