দিনাজপুরের পার্বতীপুরে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ। ভাইরাস ছড়ানোর আতংকে সম্প্রতি ছুটি শেষে চীন থেকে খনিতে ফিরে আসা এক কর্মকর্তা ও দুই শ্রমিককে খনি অভ্যন্তরের নিজস্ব হাসপাতালে আলাদাভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাদের। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি টিম এসে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের নমুনা না পেলে তবেই তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হবে বলে খনি সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনের এক্সএমসির অধীনে সে দেশেরই প্রায় ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। চীন থেকে গত ২০ জানুয়ারি ছুটি শেষে ডিজিএম গমোজসহ ২ কর্মচারী খনিতে ফিরে আসেন। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমনের আতংকে থাকায় তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি না দিয়ে খনির অভ্যন্তরের হাসপাতালে সম্পূর্ন আলাদাভাবে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি। খনির দোভাষী আব্দুল হামিদ জানান, ছুটি শেষে খনিতে ফেরত ৩ চীনা কর্মকর্তা ও শ্রমিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের নাম-পরিচয় জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, ২০ জানুয়ারি চীন থেকে আসা ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কয়লা খনির অভ্যন্তরের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এখনও করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। যেহেতু করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে ১৪ দিন পর লক্ষণ বোঝা যায়। তাই এই সময় পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এর মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হবে। এজন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম বদরুল আলম বলেন, খনিতে ৫ শতাধিক চীনা কর্মকর্তা ও শ্রমিক কাজ করছেন। এদের মধ্যে কোন কর্মকর্তা অথবা শ্রমিক ছুটিতে দেশে গেলে বা ফেরত আসলে খনি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয় না। বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই বিষয়টি তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এইচএস
করোনা ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০