For English Version
শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম স্বাস্থ্য

কিট ছাড়াই শনাক্ত হবে করোনা!

Published : Sunday, 29 March, 2020 at 12:01 PM Count : 390

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ সম্ভব বলে দাবি করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগ এবং কার্ডিওকেয়ার জেনারেল ও স্পেশালাইজড হাসপাতালের একদল গবেষক।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ফুসফুসের বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয়ে রেডিওলোজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কোভিড-১৯ নির্ণয়েও রেডিওলোজি তথা ‘চেস্ট রেডিওলোজি’ মডেল এবং কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন যে সফটওয়্যারটি রোগীর বুকের এক্স-রে এবং ফুসফুসের সিটি স্ক্যানের ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ‘কোভিড-১৯’ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করতে তাদের পদ্ধতি প্রায় সঠিক ভাবেই কাজ করবে বলে দাবি করছেন গবেষকরা।

এ দলের সদস্যরা হলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যালাইড হেলথ সায়েন্স অনুষদের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ডা. আবু নাসের জাফর উল্লাহ, পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রধান ড. এ বি এম আলাউদ্দিন চৌধুরী, মো. লিয়াকত আলী, মো. হাবিবুর রহমান, মো. নাসের ও মো. মেহেদী হাসান।

পদ্ধতি সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. আবু নাসের জাফর উল্লাহ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছি যা দিয়ে বুকের এক্স-রে পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ এবং নিউমোনিয়া রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম হবো। এটিই হচ্ছে আমাদের পদ্ধতির মূল মডেল। একটি এলগরিদম বেইজড সফটওয়্যার দিয়ে এই রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব। এক্ষেত্রে কোন আক্রান্ত ব্যক্তি যদি ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করে তবে সেই এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে আমরা তার মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বা কোন নিউমোনিয়ার সংক্রমণ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে পারব। এক্ষেত্রে এক্স-রে রিপোর্ট দেখে সফটওয়্যারই সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেবে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি।’

শ্বাসতন্ত্রজনিত সকল সমস্যার সমাধান দিতে না পারলেও নিউমোনিয়া ও কোভিড-১৯ শনাক্তে এই সফটওয়ার ১০০ ভাগ সফল হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ডা. আবু নাসের জাফর উল্লাহ বলেন, ‘শ্বাসতন্ত্রজনিত অনেক সমস্যাই মানুষের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সকল উপসর্গগুলো সফটওয়্যার জানবে না। তবে কোভিড-১৯ ও নিউমোনিয়া শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ হলেও এই দুটোর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজ করবে।’

এ পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে তা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যিনি এক্স-রে করবেন তিনি তো নিশ্চয়ই একজন টেকনিশিয়ান হয়ে থাকবেন যার কাছে একটি কম্পিউটার থাকবে। কেউ যখন একটি ক্লিনিকে যাবে বা একজন চিকিৎসকের কাছে যাবে তখন সেখানে যদি এক্স-রে করা হয়ে থাকে তা আমাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে সার্ভারে আপলোড করে দিতে পারবে। এক্ষেত্রে যিনি আপলোড করবেন তিনি তার কম্পিউটারেই বসে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল দেখে নিতে পারবেন। তখন তিনিই বলে দিতে পারবেন এটা কোভিড-১৯, নিউমোনিয়া না কি আসলে সেই ব্যক্তির কিছুই হয়নি। এই তিনটা অপশনই আপাতত আছে আমাদের সফটওয়্যারে। আমরা এভাবেই সেই সফটওয়্যারটি বানিয়েছি।’

এক্স-রে আপলোডের বিষয়ে ডা. আবু নাসের জাফর উল্লাহ বলেন, ‘https://helpus.ai/ এই লিংকে আমরা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছি। এই সাইটে গেলেই প্রথম পেজেই একটা আইকন থাকবে যেখানে Test Covid-19 নামে একটি আলাদা বার থাকবে। সেখানে ক্লিক করলেই একটা ছোট ফরম আসবে।’

তিনি বলেন, ‘যিনি এই পরীক্ষাটা নেবেন বা এই সার্ভিসটা নেবেন তাকে একজন চিকিৎসক অথবা একজন স্বাস্থ্য কর্মী হতে হবে। যাতে করে আক্রান্ত ব্যক্তির বিষয়ে তারা পরীক্ষা করতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে কোন ল্যাব টেস্ট দরকার নেই। আবার শনাক্তকরণের জন্য আমাদের কাছেও আসতে হবে না। গুগলে সার্চ দিলে যেমন আমরা ফলাফল পাই ঠিক একই ভাবে এক্স-রে ফাইল দেওয়ার পরে সেই সফটওয়্যারেই শনাক্ত করা সম্ভব।’

আবু নাসের জাফর উল্লাহ বলেন, ‘একটি এক্সরে ফাইল দেখার পরে এই পদ্ধতিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হারের বিষয়েও বলতে পারবে। যদি সেখানে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করে তার মানে হয়ে দাঁড়ায় যার এক্সরে করা হয়েছে তিনি আক্রান্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছরের ওপরে দেশের বাইরে ছিলাম। সে সময়ে আমি বিভিন্ন গবেষণা কাজে যুক্ত ছিলাম। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হতো ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণের জন্য। দেশের বাইরে অনেক স্থানেই এমন গবেষণা হয়ে থাকে। সেটা মাথায় রেখে আমরা কাজ করা শুরু করি। যেহেতু কোভিড-১৯ একটি নতুন রোগ তাই আমরা এখনো জানি না ভবিষ্যতে কী হবে আর সেই চিন্তা থেকেই এই গবেষণা শুরু।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়েই এই গবেষণা শুরু করেছি। সেখান থেকেই সেই এলগোরিদম দিয়ে আমরা সফটওয়্যারটা তৈরি করি।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রসঙ্গে আবু নাসের জাফর উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্য আমাদের এই বিষয়টি আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি অনেক উল্লসিত। আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বসার চেষ্টা করেছি। তারা কিছুদিন পরে বৈঠকের বিষয়ে জানিয়েছেন। তবে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি।’

তবে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft