Monday | 1 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 1 June 2026 | Epaper

ঢামেকে করোনা আতঙ্কে চিকিৎসা অবহেলা, তরুণী মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০, ৭:১১ পিএম   (ভিজিট : ৫১৭)
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের করোনাভাইরাস আতঙ্কে চিকিৎসার অবহেলায় কানাডা ফেরত নাজমা আমিন (২৪) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে চিকিৎসকরা দাবি করছেন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল জটিলতায় নাজমা আমিনের মৃত্যু হয়। গত শনিবার বিকেলে নাজমার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, নাজমা আমিন কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের ইউনিভার্সিটি অব রেজিনের স্নাতক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত ৯ মার্চ ঢাকায় ফিরে পেটে ব্যথার কথা জানান। প্রতিবার খাওয়ার সময় তার বমি ভাব হতো বা পেটে ভীষণ ব্যথা হতো। ১৩ মার্চ রাতে অসহনীয় ব্যথা হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় বাড়ির কাছে মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে।

আইসিইউ (ইনটিনসিভ কেয়ার ইউনিট) বেড খালি আছে এমন কোনো হাসপাতাল খুঁজে পাচ্ছিলেন না জানিয়ে নাজমার বাবা আমিন উল্লাহ বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে বলা হয় তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়া দরকার। তখন অনেক রাত।’

পরবর্তীতে নাজমাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ওয়ার্ডে ভর্তি করে স্যালাইন, অক্সিজেন ও ওষুধ দেওয়া হলে তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করেন। আমিন উল্লাহ বলেন, ‘তার ব্যথাও কিছুটা কমেছিল।’

সকাল আটটায় নার্সদের শিফট বদল হয়। সাড়ে এগারোটার দিকে নতুন নার্সদের একজন জানতে চান নাজমার কী হয়েছে? সমস্যা বলার এক পর্যায়ে আমিন উল্লাহ উল্লেখ করেন, তার মেয়ে সম্প্রতি কানাডা থেকে এসেছে।

কানাডার কথা উল্লেখ করাতেই নার্স চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘সে কানাডা থেকে এসেছে! তার জ্বরও আছে!’ তারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানায় নাজমা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

এরপর পুরো ওয়ার্ডে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। নাজমার কাছে আর কেউই আসেননি। সব ডাক্তার ও নার্স ওয়ার্ডটি ছেড়ে চলে যায়। অথচ পরীক্ষার পর জানা যায় নাজমার করোনাভাইরাস নেই।

পরিবারের দাবি, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দীর্ঘ সময় চিকিৎসকদের কোনো প্রকার নজরদারি না করার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে একজন চিকিৎসক গ্লাভস ও মাস্ক পরে নাজমার কাছে যান। তার হাতে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক ভরা একটি সিরিঞ্জ। এই সিরিঞ্জ শরীরে পুশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাজমা মারা যান।

নাজমার তদারকির দায়িত্বে থাকা সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম জামাল বলেন, ‘যখন জানা গেল মেয়েটি কানাডা থেকে এসেছে তখন ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’ পরিস্থিতি খুব শিগগির স্বাভাবিক হয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

ঢামেক হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার সরঞ্জাম ও চিকিৎসা কর্মীদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই তাই কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। এমনটি জানিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তার করোনাভাইরাস আছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য আমাদের আইইডিসিআর থেকে প্রতিনিধিদের আসতে বলতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কর্মীদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। তারা দীর্ঘ সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকতে হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।’

ডা. এবিএম জামাল বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি, তার অন্ত্রে ছিদ্র ছিল। অর্থাৎ, তার অন্ত্রের কোথাও ফাটল ছিল। তাকে যখন ভর্তি করা হয়েছিল, তখন তার শরীর থেকে প্রচুর তরল বের হয়ে গেছে।’

এইচএস



সম্পর্কিত   বিষয়:  ঢামেকে করোনা আতঙ্কে চিকিৎসা অবহেলা   তরুণী মৃত্যু  


LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close