বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববার সকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসে নতুন করে ১৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ হাজার ৯২২ জন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়াও বিশ্বের মোট ১৫২টি দেশে মরণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া ঝুঁকিতে আছে আরও অনেক দেশ। এতে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে। যাদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানের নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি মহামারি ভাইরাসটি মোকাবিলায় এরই মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়াসিস বলেছেন, ইউরোপ এখন মহামারির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। যা আমাদের জন্য একটি করুণ মাইলফলক।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮২৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৯৯ জনের। চীনের পর সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে একদিনেই ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৪১ জনে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার।
এরপরের অবস্থান ইরানের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৭২৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া মারা গেছেন ৬১১ জন।
অপরদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮৩৬ জন, আর প্রাণ গেছে ৫৭ জনের। স্পেনে আক্রান্ত ৬ হাজার ৩৯১ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯৬ জনের। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত এক হাজার ৩৭৫ এবং মারা গেছেন ১৩ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত এক হাজার ১৪০ ও মৃতের সংখ্যা ২১।
তাছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক লোক প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।
-এমএ