
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইউরোপের দেশগুলো থেকে এক মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকছে যুক্তরাজ্য।
নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এমন পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প। এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সব ধরনের বাণিজ্যও বন্ধ থাকবে।
জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইউরোপে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে কারণ দেশগুলো চীন থেকে লোকজনের আসা-যাওয়া বন্ধ করতে পারছে না।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৭ জনে।
একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩১৪ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ হাজার ৫৯০ জন। দেশটিতে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১২ হাজার ৪৬২ জন- চীনের পর যা সর্বোচ্চ। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হলেও যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা না আনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, কঠিন কিন্তু জরুরি এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে না। যদিও দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৬০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
বুধবার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। গত দুই সপ্তাহে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা উৎপত্তিস্থল চীনের বাইরে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম ঘেব্রেয়েসুস। এ ভাইরাসের আশঙ্কাজনক মাত্রায় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ‘গভীরভাবে শঙ্কা’ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, বুধবার ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউসার ওই অঙ্গরাজ্যে ১০ জনের করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩৮ জন।
-এমএ