বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও ছয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদ বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবরার ফাহাদ হত্যায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন, মেহেদী হাসান রবিন (১৫ ব্যাচ), মোহাম্মদ অনিক সরকার (১৫ ব্যাচ), ইফতি মোশারফ সকাল (১৬ ব্যাচ), মো. মনিরুজ্জামান মনির (১৬ ব্যাচ), মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (১৫ ব্যাচ), মো. মুজাহিদুর রহমান (১৬ ব্যাচ), মেহেদী হাসান রাসেল (১৩ ব্যাচ), এহতেশামুল রাব্বি তানিম (১৭ ব্যাচ), খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর (১৬ ব্যাচ), মুনতাসির আল জেমি (১৭ ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (১৭ ব্যাচ), মো. শামীম বিল্লাহ (১৭ ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (১৭ ব্যাচ), হোসাইন মোহাম্মদ তোহা (১৭ ব্যাচ), মুজতবা রাফিদ (১৬ ব্যাচ), মো. মিজানুর রহমান (১৬ ব্যাচ), মো. আশিকুল ইসলাম (১৬ ব্যাচ), এস এম মাহমুদ (১৪ ব্যাচ), ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না (১৫ ব্যাচ), অমিত সাহা (১৬ ব্যাচ), মো. মাজেদুর রহমান (১৭ ব্যাচ), মো. শামসুল আরেফিন (১৭ ব্যাচ), মোয়াজ আবু হুরাইরা (১৭ ব্যাচ), মো. আকাশ হোসেন (১৬ ব্যাচ), মোরশেদ-উজ-জামান মন্ডল (১৬ ব্যাচ) মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪ ব্যাচ)।
শাস্তিপ্রাপ্ত অন্য ৬ জন হলেন, আবু নওশাদ সাকিব (১৭ ব্যাচ), মো. সাইফুল ইসলাম (১৭ ব্যাচ), মোহাম্মদ গালিব গালিব (১৭ ব্যাচ), মো. শাওন মিয়া (১৭ ব্যাচ), সাখাওয়াত ইকবাল অভি (১৭ ব্যাচ) ও মো. ইসমাঈল (১৬ ব্যাচ)।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে গত ০৬ অক্টোবর (রোববার) মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শের-ই-বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ। গত ১৩ নভেম্বর এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।
অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারে নাম রয়েছে ১৯ জনের। এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত এজাহারের বাইরে ছয়জন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন ও এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে আটজন বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
১৮ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম মামলার অভিযোগ (চার্জশিট) গ্রহণ করে পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
-এমএ