বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তিনদিন কুষ্টিয়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এসময় ভিসি ফাহাদের কবর জিয়ারত করে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাল্কা লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে যান বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। সেখানে পৌঁছে প্রথমেই তিনি ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে ফাহাদের বাড়িতে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন ভিসি। বাধা উপেক্ষা করে ভিসির গাড়ি ফাহাদের বাড়ির দিকে যেতে চাইলে নারীরা রাস্তা
শুয়ে তার গাড়ি আটকে দেয়। এনিয়ে পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ
সময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রীসহ আরো একজন নারী আহত
হন।
এ সময় ভিসিকে উদ্দেশ করে তারা ‘আমার ছেলে মরল কেন, জবাব দাও’, ‘ভিসি তুমি ফিরে যাও’সহ নানা স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেখান থেকেই ফিরে আসেন ভিসি।
আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করছেন বুয়েট ভিসি
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুয়েট ভিসি আবরারের কবর জিয়ারত করতে পেরেছেন। তবে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। আবরারের ভাই ও বাবার প্রশ্নবানে জর্জরিত হন উপাচার্য। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, উপাচার্য কেন ওই হত্যাকাণ্ডের পরপর সেখানে উপস্থিত হননি। এখন কেন এসেছেন?
এদিকে বুয়েট ভিসি আবরারের বাড়ি যাবেন এমন খবরে রায়ডাঙ্গা গ্রামে আগে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আবরারের বাড়ির পাশে ও কবরের আশপাশ এলাকায় অসংখ্য র্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়।
গত রোববার রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।