বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শের-ই-বাংলা হলের সিসিটিভি ক্যামেরার ১৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাতে ভিডিও ফুটেজটি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করলে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।
এর আগে সোমবার (০৭ অক্টোবর) রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে এই ভিডিওটি সংগ্রহ করেন শিক্ষার্থীরা।
নতুন বের হওয়া ফুটেজটি ১৫ মিনিট ৫ সেকেন্ডের। হল প্রশাসন ও পুলিশ ফুটেজ দিতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীরা সোমবার (০৭ অক্টোবর) হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ১০ ঘণ্টার সিসিটিভির ফুটেজ দেওয়া হয়।
নতুন প্রকাশিত ফুটেজের প্রথম ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড নিচতলার সিঁড়ির পাশের ক্যামেরা, এরপর ৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড পর্যন্ত দ্বিতীয়তলার ২০১১ নম্বর কক্ষের সামনের ফুটেজ, এরপর ১১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত দ্বিতীয়তলার ২০০৫ নম্বর কক্ষের সামনের ফুটেজ এবং ১৫ মিনিট ৪ সেকেন্ড পর্যন্ত নিচতলার হল গেটের ক্যামেরার ফুটেজ।
শিক্ষার্থীরা ফুটেজে একজন ছাড়া বাকিদেরকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, আবরার ফাহাদকে রাত ৮টা ১৩ মিনিটে ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতাকর্মীরা ডেকে দ্বিতীয়তলায় নিয়ে যান। এরপরই সিঁড়ি দিয়ে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ) ও সদস্য মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ)।
দ্বিতীয়তলার ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ ও তানিম, এছাড়া তোহা, রাফাদ, মাজেদ, মনির, বিটু, বিল্লাহ, গালিব, মোয়াজ, ইফতি মোশাররফ সকাল, তানভীর, মিজান, জেমি, মোরশেদকে দেখা যায়। ৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের সময় ফাদের মরদেহ দ্বিতীয় এবং নিচতলায় সিঁড়ির মাঝখানে রাখা হয়।
এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে। পরর্বতীতে হল প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, বুয়েটের ডাক্তার ঘটনাস্থলে আসেন।
গত রোববার (০৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ফাহাদকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে সোমবার (০৭ অক্টোবর) হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।