
বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে ৬ষ্ঠ দিনের মত ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই’, ‘খুনিদের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না’, ‘এক আবরার কবরে লাখো আবরার বাইরে’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস এক সাথে চলে ন ‘,- এমন নানা স্লোগানে শহীদ মিনার এলাকা কম্পিত হয়ে উঠছে।
শনিবার সকাল থেকে বুয়েট প্রশাসন ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা খোলা হয়েছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতে একাডেমিক ভবনগুলোয় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, বুয়েট ভিসি এর আগেও আমাদের বিভিন্ন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দাবি মেনে নিয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেসব দাবি আজো বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা তার কথার ওপর আস্থা রাখছি না। সামনে যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা, তাই দ্রুততার সঙ্গে আমাদের পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।’
‘গতকাল ভিসি স্যারের সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই পাঁচটি দাবি বাস্তবায়ন করা হলে আমরা ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে দেব। এর আগ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে দেয়া হবে না।’
তারা আরও বলেন, ‘আমরা যে পাঁচটি দাবি দাবি উল্লেখ করেছি, ভিসি চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। এসব দাবি বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত নতুন করে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’
পাঁচ শর্ত
১. আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে এখনই সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে, তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে মর্মে বুয়েট প্রশাসন থেকে নোটিস জারি করতে হবে।
২. আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বুয়েট প্রশাসন বহন করবে এবং তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে, সেটাও নোটিসে লেখা থাকবে।
৩. বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সকল হল থেকে অবৈধ ছাত্র উৎখাত করতে হবে। অবৈধভাবে হলের সিট দখলকারীদের উৎখাত করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস রুম সিলগালা করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পর ভবিষ্যতে কেউ যদি এ রকম সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হয় কিংবা কোনো রকম ছাত্র নির্যাতনে জড়িত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে- তা বিস্তারিত জানিয়ে নোটিস জারি করতে হবে। পরবর্তীতে এটি যে অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নোটিসে উল্লেখ থাকতে হবে। পাশাপাশি, এ ধরনের কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি করতে হবে এবং কমিটি গঠনের বিষয়টিও নোটিসে উল্লেখ করতে হবে।
৪. বুয়েটে পূর্বে ঘটে যাওয়া সকল ছাত্র নির্যাতন, হয়রানি, র্যাগিংয়ের ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা প্রকাশের জন্য বিআইআইএস অ্যাকাউন্টে একটি কমন প্ল্যাটফর্ম থাকতে হবে। বিষয়টি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শাস্তি বিধানের জন্য একটি কমিটি থাকতে হবে। বিষয়টি নোটিসের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
৫. প্রত্যেক হলের সকল ফ্লোরের দুই পাশে সিসি ক্যামেরা যুক্ত করতে হবে এবং এই সিসিটিভি ফুটেজ সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে- এই মর্মে নোটিস আসতে হবে।
পাঁচ শর্ত তুলে ধরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, আমরা চাই না ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বুয়েটে ১৯ ব্যাচের যে শিক্ষার্থীরা আসবে, তারা একটি অসুস্থ একাডেমিক কালচারের অংশ হোক।
এসআর