লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক সংগঠনের নামে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং এক চালককে মারধরের প্রতিবাদে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন ট্রাকচালকরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর (কাঠালতলা) রেলগেট এলাকায় মহাসড়কের ওপর ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে এ অবরোধ শুরু করা হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে বাস, ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবরোধকারী চালকদের অভিযোগ, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শ্রমিক পরিচয়পত্রের নামে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দাবি করছেন। পরিচয়পত্র না থাকলে চালকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর আবারও একইভাবে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
চালকদের দাবি, গত মঙ্গলবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকায় এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাহিরুল ইসলাম তারেক নামে এক ট্রাকচালককে মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ট্রাকচালক হাবিবুর রহমান হবি ও সফিকুল ইসলাম বলেন, “চাঁদাবাজি ও চালকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আমরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছি। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন। পাটগ্রাম থেকে লালমনিরহাটগামী কয়েকজন যাত্রী বলেন, চালকদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ সরকার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে। চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে আলোচনার পর চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এমএইচএস/এসআর