খরার কারণে দ্রুত কমে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। এর ফলে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বাকি ৩টি ইউনিট এখনো বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ২টি ইউনিট থেকে বর্তমানে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রটির ৫টি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
কপাবিকের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমছে। চলতি সপ্তাহে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কাপ্তাই হ্রদের রুল কার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) থাকার কথা। কিন্তু বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত হ্রদের পানির স্তর ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ পানির স্তর এখনো ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম রয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ২টি ইউনিট থেকে ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সহসা মুষলধারে বৃষ্টিপাত না হলে বাকি ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক সীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
এসকে/আরএন