স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে অতিদ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশে কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকট দূর করতে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে ৪৫তম বিসিএসে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসে ৬৫০ জন সহকারী সার্জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তি গড়ে দেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসব হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের সব ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৫ ভায়াল বা ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৫০ ভায়াল অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৬৫ ভায়াল বা ২৬০ ডোজ ইমিউন গ্লোবুলিন মজুত রয়েছে।
সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সরকার চার স্তরের মজুতব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। কোনো উপজেলায় ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেলে পাশের উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হবে। সেখানে না থাকলে জেলা পর্যায় থেকে সরবরাহ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাকসিন ক্রয়ের ব্যবস্থা করবেন।
সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশজুড়ে চার স্তরে পর্যাপ্ত মজুত রাখা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না।”
জেবি/আরএন