আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, 'জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের আত্মদান বিশ্ব শান্তির জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'
বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি।
এ সময় বিশ্ব শান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।' তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।'
নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।'
সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখাই বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার মূল ভিত্তি।' অতীতের বিভিন্ন সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, অপপ্রচার ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ সবসময় বিশ্ব শান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জাতিসংঘ সনদ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে ভূমিকা রেখে যাবে।'
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক। জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়াও, বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
শাহাদতবরণকারী-আহত শান্তিরক্ষীদের সম্মানার্থে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কূটনৈতিকবৃন্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, তিন বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেবি/এমএ