সাভারে মাদকসংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শামীমকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার বিকেলে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় কক্সবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার শামীমকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি ও শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার না করতে পারায় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছিলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং সাভারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই ঘটনার প্রেক্ষিতে আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাভার থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা ওরফে শামীম ডাকাত ২০১০ সালে রাজশাহী জেলা থেকে সাভারের সাহিবাগ এলাকায় আসেন। এরপর তিনি চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে মাদক ব্যবসা, নারী পাচার ও পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতির অভিযোগেও তার নাম উঠে আসে। তিনি একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শামীমের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হতো। বিভিন্ন সহযোগীর মাধ্যমে হিরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে শামীমের গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “শামীম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলার আসামি বা মাদক কারবারি কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে দুপুরে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাভারের আইচা নোয়াদ্দা এলাকায় যান এসএ টিভির সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন, দেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন এবং ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম। এ সময় তাদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপহরণ করে স্থানীয় একটি গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। হামলাকারীরা দেশ টেলিভিশনের গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনার পর কয়েকজনকে আটক করা হলেও প্রধান আসামি শামীমসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ বুধবার কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওএফ/এসআর