Thursday | 11 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Thursday | 11 June 2026 | Epaper
BREAKING: জুনের শেষেই প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন দিগন্তের আশা      একনজরে বাজেট বক্তব্য ২০২৬-২৭      আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল      বাজেটে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ১০ অগ্রাধিকার      সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো      ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যে কর ছাড়      বাড়ছে সব ধরনের সিগারেটের দাম      

একনজরে বাজেট বক্তব্য ২০২৬-২৭

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম   (ভিজিট : ৮২)

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরপর অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

পুরো বাজেট বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রা পেরিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আমি আজ এই মহান সংসদে আমাদের প্রথম বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপনের জন্য দাঁড়িয়েছি।

শুরুতেই বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের এবং নির্যাতিত নারীসহ সকল আত্মত্যাগী মানুষদের। একইসঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মদানকারী সকল শহিদ এবং গুম-খুন-হামলা-মামলা ও গুলিবর্ষণের শিকার সকল আহত যোদ্ধাকে, যাদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় জীবনে গণতন্ত্র, অধিকার ও নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

দেশ ও জনগণের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বরাবরই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদের শাসনের বিরুদ্ধেও এদেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার ভিত্তিতে বিএনপির নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে সেটিই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের জমিন তৈরি করেছে। এই জমিনের ওপর দাঁড়িয়েই সংগঠিত হয়েছে ২০২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের ৩১ দফার পথ ধরে বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও সম্প্রসারিত প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে উপস্থাপন করেছে। আমরা যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করেছি সেটা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার ঘোষণাও ইতোমধ্যে তিনি জাতির সামনে দিয়েছেন।

অনেক আগে থেকেই বিএনপি এই রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নকে সামনে এনেছে এই কারণে যে ফ্যাসিবাদ দেশে অর্থনীতির যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, সমাজ-সংস্কৃতির বুনন (socio-cultural fabric) যেভাবে ধ্বংস করেছে তাতে এর পুনরুদ্ধার ও একে পুনরায় গতিশীল করা রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া সম্ভব নয়।

কিন্তু এটাও একই সাথে মনে রাখা দরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ (Economic Democratisation) অর্থাৎ সব মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবিক বিবেচনা সম্পন্ন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছাড়া এই রাজনৈতিক সংস্কার টেকসই হবে না।

১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সময়ে বিএনপি সরকারের দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে অর্থনীতির মূল সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ছিল। কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে সকল প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ও ধ্বংস করেছে। তথাকথিত উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে মূলত লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতির মৌল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই অবস্থার কেবল পুনরুদ্ধারই নয়, একে উত্তরণ ও সমৃদ্ধ পুনর্গঠনের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপির ওপরে জনগণ যে ভরসা রেখেছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সেই দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।

আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই রাজনীতি ও অর্থনীতির পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে আমরা জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে কেবলমাত্র সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ না, বরং আমাদের দেশকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়নের পথ-নকশার অংশ হিসেবে বাজেট উপস্থাপন করছি। আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট হবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিতকরণে সরকারের অভিপ্রায়ের একটি প্রতিফলন।

আগেই উল্লেখ করেছি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষুদ্র দলীয় ও গোষ্ঠীগত দুরভিসন্ধিই ছিল প্রধান প্রবণতা। ফলে একদিকে এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হস্তগত হয়েছে এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যর্থতাগুলোকে ঢাকা হয়েছে মিথ্যা পরিসংখ্যান ও কথার ফুলঝুরি দিয়ে।

ফলে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকা শক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তারের ওপর জোর দিয়ে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপরেখা উপস্থাপন করেছিলাম। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সে লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছি।

জনগণের গৌরবময় গণঅভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে তৈরি হওয়া নতুন গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের এই অনন্য অভিযাত্রার শুরুতেই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আমরা নতুন ও তীব্রতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি গোটা বিশ্বে যে নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মেরুকরণের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা গোটা বিশ্বকে এবং বিশেষ করে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। দেশের অর্থনীতির ভগ্নদশার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি।

আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সাথে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশ (Longevity Dividend)-এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশও (Democratic Dividend) অর্জন করবে।

সেই লক্ষ্যের আলোকে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রস্তাব দাঁড় করিয়েছে-

সবার জন্য উন্নয়ন: আমাদের লক্ষ্য সর্বজনের, সর্বশ্রেণীর, সর্বখাতের, সকল অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

২০২৬-২৭ বাজেট: ক্রীড়া খাতে বিশেষ গুরুত্ব, ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী দক্ষতা-নির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানব সম্পদে পরিণত করা। দ্বিতীয়ত, মৌলিক অধিকার হিসেবে সবার জন্য মানসম্পন্ন সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা: সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক (Life Cycle Based) সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে সকল বয়সের, সকল স্তরের নাগরিকের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি মজবুত করা।

বিনিয়োগ-নির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

বিনিয়ন্ত্রণকরণ (Deregulation) এবং সাশ্রয়ী ও সহজীকৃত ব্যবসার পরিবেশ: বিনিয়ন্ত্রণকরণের মাধ্যমে সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ পরিহার করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা।

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা: ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান।

জ্বালানি নিরাপত্তা: উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ: একটি অভিমুখমুখী, গতিশীল ও প্রকৃত অর্থে প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা।

প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণে বনায়নকে একটি সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত বিবেচনার পাশাপাশি, নদীসমূহের নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে একটি টেকসই, সবুজ ও পরিবেশ-সহনশীল বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন দক্ষ ও কার্যকর করে তোলা।

এসব অগ্রাধিকারের পাশাপাশি মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি (Creative Economy), ক্রীড়া অর্থনীতি (Sports Economy), সবুজ অর্থনীতি (Green Economy) এবং সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy)-এর মত খাতগুলোকে আমরা জাতীয় অর্থনীতির একেবারে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাই।

বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এবং বাজেটের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ও বাস্তবায়নে আমরা নীতিগতভাবে প্রধান বিবেচনায় রাখছি, ভ্যালু ফর মানি (Value for Money) অর্থাৎ সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার; রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (Return on Investment) অর্থাৎ জনগণের সম্পদ যেসকল প্রকল্পে নিয়োজিত হচ্ছে তার কার্যকর অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন; কর্মসংস্থান সৃষ্টি (Job Creation) অর্থাৎ সরকারের বিনিয়োগের সুনির্দিষ্টভাবে কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা; পরিবেশগত বিবেচনা (Environmental Consideration) অর্থাৎ প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষার দিকে সজাগ দৃষ্টি।

বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল, ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাবান বাংলাদেশের ভিত রচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই বাজেটে তার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোকেই আমরা প্রতিফলিত করেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই বাজেট উন্নয়নকে বৈষম্যহীন, কর্মসংস্থানকে নিরাপদ ও শোভন, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতামূলক এবং সকল শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের উন্নয়নের অভিযাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আগামী এক বছরের নীতি-পরিকল্পনা হিসেবে কাজ করবে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

(ক) সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র
আমি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের সঙ্গে বিএনপির পূর্বতন সরকারের সময়ের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসমূহের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরছি

২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৬.৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে পতিত সরকারের সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৪.২২ শতাংশে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০০৫-০৬ সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশ, যা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।

সম্পদের অসম বণ্টন ব্যবস্থা, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। ২০০৫ সালে আয়ভিত্তিক জিনি কোফিশিয়েন্ট ছিল ০.৪৬৭, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ০.৪৯৯-এ পৌঁছেছে।

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত নিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে; এখনও তা ৮ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন।

২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩.৬ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৫.৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

২০০৫ সালে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা (Capital Adequacy Ratio) ছিল ৭.৩ শতাংশ, ২০২৫ সালের শেষে ঋণাত্মক অর্থাৎ -২.৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে অনেক কমে ২০২৪-২৫ এ ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, স্ক্যাম ও ভুল নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং এর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করা হয়েছে। বিএনপি সরকার যত বার এদেশে সরকার পরিচালনা করেছে কখনোই ব্যাংক, আর্থিক খাতসহ পুঁজিবাজারে কোন সংকট সৃষ্টি হয়নি।

২০০৬ সালে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে প্রায় ৬.৫ গুণ বেড়ে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

আমাদের রেখে যাওয়া অভ্যন্তরীণ ঋণ ৬৫ হাজার কোটি থেকে প্রায় ১৬ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকায় যা সত্যিই উদ্বেগের।

সুদ ব্যয় ২০০৫-০৬ সালে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে ১৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ সালে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ঋণমান আমাদের রেখে যাওয়া ‘নিম্ন’ ঝুঁকি ক্যাটাগরি হতে ‘মধ্যম’ ঝুঁকির দেশে অবনমন হয়েছে।

২০০৫-০৬ সালে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২১.৬ ও ১২.২ শতাংশ। পক্ষান্তরে, ২০২৩-২৪ সালে সূচক দুটির প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক।

২০০৫-০৬ সালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ৬৮ টাকা হতে ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে, যা বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব ফেলছে।

(খ) বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তার প্রভাব (মধ্যপ্রাচ্য সংকট)

আমাদের সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরু হয়। অর্থনীতিতে আকস্মিক ঝুঁকি তৈরি করে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে, ফলে মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য আমাদের প্রবাসী জনশক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তাই ঐ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে কর্মসংস্থান ও প্রবাস আয়প্রবাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা একটি স্থায়ী প্রেক্ষাপট (Neo-Normal)। যুদ্ধ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সুদের হারের ঊর্ধ্বগতি, বাণিজ্য শুল্কের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন; এসবের যেকোনো একটি ঘটনাই অল্প সময়ের মধ্যে দেশের আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই আমাদের লক্ষ্য হলো বাইরের ধাক্কা এলেও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর অভিঘাতের মাত্রা মোকাবিলা করে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা।

তৃতীয় অধ্যায়
সরকারের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল

দেশের বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনায় স্পষ্ট যে ফ্যাসিবাদী সরকারের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক নীতি, কার্যকর সংস্কার ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সৃজনশীলতা, শ্রম, দক্ষতা ও উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর। সে কারণে, বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ফলে, উন্নয়নের সুফল সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।

এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা অর্জন, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ নির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে মধ্যমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করেছি।

এই কাঠামোর আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে আমরা দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করতে, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২.৭ শতাংশে উন্নীত করতে এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে চাই।

অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে আমাদের সরকার এই পরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করবে, যাকে আমরা 3R (Recovery & Stabilization, Restoration and Reconstruction for Acceleration Strategy) কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছি।

আমাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ, অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপ, সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানি নির্ভর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবচিতি (depreciation) এবং উচ্চ বিনিময় হার দেশে মূল্যস্ফীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। এজন্য একটি স্থিতিশীল মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বজায় রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণে জোর দেয়া হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে করনীতি প্রণয়ন করা হবে।

কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা হবে এবং কর ব্যবস্থায় জনগণের হয়রানি নিরসন করে আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

বর্তমানে কর-জিডিপি’র অনুপাত ৬.৮ শতাংশ, যা আমরা আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৯.৬ শতাংশে এবং রাজস্ব-জিডিপি’র অনুপাত বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে উন্নীত করব।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ এবং তার অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করায় আমাদের Debt Sustainability ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমরা বর্তমান ‘মধ্যম’ মানের ঝুঁকি থেকে ‘নিম্ন’ ঝুঁকির ঋণমানে ফিরে আসতে চাই। তাই, আমরা রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি একটি সহনীয় পর্যায়ে রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই।

আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে পেরিয়ে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সময় এসেছে। তাই, টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতিকৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ প্রবাহ সচল রাখতে সরকারের মধ্যমেয়াদি কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনয়নের মাধ্যমে এ খাতের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে-

খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদার করা হচ্ছে।

দুর্বল ব্যাংকসমূহের আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনঃমূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, দুর্বল ব্যাংকসমূহের পুনঃমূলধনীকরণের জন্য চলতি অর্থবছরে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।আমরা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। এটিকে পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে, যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়িয়ে নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

আমরা ঋণ নির্ভর বিনিয়োগকে ইকুইটিতে রূপান্তর করছি। আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক (Investment & FDI) অর্থনীতি গড়ে তোলা।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যাতে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমে। কর্পোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়ন চলমান আছে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে কর্পোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড (Municipal Bond) ইস্যুর কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদাদোভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সকল ধরনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।


বিস্তারিত পড়ুন...




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close