দাম বাড়ানোর আগে গ্যাস কমিয়ে দিয়ে সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “এটা ফ্যাসিবাদী প্র্যাকটিস।”
বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে এমন অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গ্যাসের দাম কখন বাড়ানো হয়?- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “দাম বাড়ানোর আগে গ্যাস কমায়ে দেওয়া হয়। সমাজে সংকট সৃষ্টি করা হয়। জনগণ অতিষ্ট হয়ে ওঠে। এই ফাঁকে এর দাম বাড়াইয়া দেওয়া হয়। জনগণ বলে, ‘যাক বাবা দাম বাড়লেও তো গ্যাস তো পাইয়া গেছি’। জুলাই আন্দোলনের ক্রেডিট জনগণের, নেতৃত্বের ক্রেডিট তরুণদের। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড কেউ না।”
এসময় জামায়াত আমির জুলাই শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের দেশে-বিদেশে সুচিকিৎসারও দাবি জানান।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি দাম বাড়ান, বাড়ানোর আগে সংকট সৃষ্টি হয়। আর সংকট সৃষ্টি হওয়ার কারণে যদি দাম বাড়ার পরে আবার সংকট দূর হয়ে যায়, তাহলে দাম না বাড়াইয়া সংকট দূর হয় না কেন?
“এটা জনগণের সাথে ধোকা প্রতারণা। অতীতে যারা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, চুরি করেছে, ডাকাতি করেছে; এখন সরকারি দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেছেন, ‘সেই চুরি ডাকাতি অপরাধের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, কোনো পরিবর্তন হয় নাই’।’’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ইঙ্গিত করে কয়েকদিন আগে দেওয়া তার এমন বক্তব্যের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “এটা আরেকটা রাজসাক্ষী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এই দাবি থেকে সরে আসতে আমাদেরকে লোভ দেখানো হয়েছে, চাপও দেওয়া হচ্ছে।
“কিন্তু কোনো লোভ কিংবা চাপ আমাদেরকে জনগণের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরাতে পারবে না।”
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতাদের অংশগ্রহণে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
টিআইএস