২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশ্র সমালোচনা, সংশয় ও ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক বিবৃতিতে বাজেটকে “অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা-বিবর্জিত” বলে মন্তব্য করেছে। দলটির মতে, সরকার যেখানে প্রায় ২.৫ লাখ কোটি টাকার ঘাটতির কথা বলছে, বাস্তবে তা সাড়ে ৪.৫ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয় এবং এতে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি থেকে যাবে।
অন্যদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই। বরং প্রস্তাবিত বাজেট বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করার পরিবর্তে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থে প্রণীত এবং বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তার মতে, ঘাটতি পূরণে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে, নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং কর্মসংস্থান, শ্রমিক ও কৃষকের স্বার্থে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বাজেটে জনপ্রত্যাশার আংশিক প্রতিফলন থাকলেও বিশাল ঘাটতির চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে এবং বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে। তবে রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগ নিলে কিছু লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বাজেটে ধনীদের তুলনায় সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়ানো হয়েছে। ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতা অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে এবং ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি কর্মসংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চর এলাকার উন্নয়নে যথাযথ বরাদ্দ না থাকার সমালোচনা করেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বাজেটে আয়বৈষম্য মোকাবেলার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। করের আওতা সম্প্রসারণ যেন সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
জেবি/ এসআর