দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী রোববার থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া সংগঠন দুটি হলো বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন।
শ্রমিক নেতারা বুধবার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে ওই আবেদন ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনপত্রে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, এর আগেও কয়েক দফা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে সেসব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
তারা বলেন, এবারও দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় রোববার থেকে বন্দরের সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবিসংবলিত আবেদনপত্র ইতোমধ্যে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কর্মবিরতি কার্যকর হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলবে।
এসকেআর/ এসআর