খুলনার কয়রা উপজেলায় আম খাওয়ার পর একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় লতিকা সানা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পরিবারের আরও চার সদস্য। তারা হলেন— তুলসি সানা (৪২), ইন্দ্রজিৎ সানা (১৪), বিবেকানন্দ সানা (৬০) ও প্রকাশ সানা (৫১)। চিকিৎসকদের মতে, তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাতে পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে পাঁচজন স্থানীয় হায়াতখালী বাজার থেকে কেনা আম খান। এরপর তারা স্বাভাবিকভাবেই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে পরদিন ভোর থেকে আম খাওয়া পাঁচজনেরই পেটের সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের বারবার পাতলা পায়খানা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতা শুরু হয়।
অবস্থার অবনতি হলে বুধবার বিকেলে তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক লতিকা সানাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের ভাইপো সাংবাদিক নিতিশ সানা জানান, বাজার থেকে কেনা আম খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্বাভাবিক ছিলেন। তবে ভোরের দিকে একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। লতিকা সানার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
তিনি বলেন, আমে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে অথবা সংরক্ষণের সময় কোনো দূষণের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ফলের নিরাপত্তা ও রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাজার থেকে কেনা ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক খাদ্য গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এসএমএস/এসআর