ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের জন্য ম্যাচ দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কারা বিধিমালার কারণে রাতের ম্যাচগুলো উপভোগ করার সুযোগ পাবেন না কারাবন্দিরা।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কারাগারের ওয়ার্ডে থাকা বন্দিরা বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সম্প্রচারিত বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে পারবেন। এছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাবস্ক্রিপশন গ্রহণের অনুমতি দেশের সব কারাগারে দেওয়া হয়েছে।
ফলে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ চাইলে বিটিভির পাশাপাশি ওই বেসরকারি চ্যানেলের মাধ্যমেও বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারবে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।
কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারাগারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী রাতে বন্দিদের ওয়ার্ডে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। ফলে গভীর রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখার সুযোগ থাকবে না। তবে দিনের বেলা কিংবা সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো কারাবন্দিরা উপভোগ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার কারা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কারাগার সূত্র জানায়, ওয়ার্ডে সকাল ৮ থেকে ৯টার আগে টিভি দেখা যায় না। রাত ১০টা পর্যন্ত কারাগারে বন্দিরা বিটিভি দেখতে পারেন। রাত ১০টার পর আর টিভি দেখার সুযোগ নেই। তবে সেলে থাকা বন্দিরা দিনে-রাতে টেলিভিশন দেখার সুযোগ পান না। এছাড়া সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা সকাল থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বন্দিদের সকাল থেকে যেসব খেলা চলবে তা দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু তারা মধ্যরাতের কোনও খেলা বন্দিরা দেখতে পারবে না।
এ ব্যাপারে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত–উল–ফরহাদ বলেন, বন্দিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারাগারে বিটিভি দেখতে পারেন। তবে এবার কোনও কারা কর্তৃপক্ষ চাইলে ‘টি–স্পোর্টস’ দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারবে। শুধু বিশ্বকাপ চলাকালীন এটি কার্যকর থাকবে। এছাড়া সকাল থেকে যে ম্যাচ হবে সেগুলো যাতে বন্দিরা দেখতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বন্দিদের টিভি দেখার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলে কারা কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিভি চালু থাকে। দিনে বন্দিদের বিভিন্ন রকম কাজ এবং কারা কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল কাজ থাকে। তবে লকআপ অর্থাৎ সন্ধ্যার পর বন্দিদের তেমন কোনো কাজ থাকে না। অধিকাংশ বন্দি তখন টিভির সামনে বসেন। এছাড়া অনেকে দিনেও টিভি দেখেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের ৭৪টি কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৭৪ হাজার। যদিও বন্দী ধারণক্ষমতা ৪৬ হাজার।
এসআর