মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদকে শেষ বিদায় জানাতে ভোলায় মানুষের ঢল নেমেছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর দ্বিতীয় জানাজায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার
জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মরদেহ ভোলায় আগমন
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ ভোলায় আনা হয়। ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারটি অবতরণের পর সেখানে আত্মীয়স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ভিড় করেন।
পরে মরদেহ একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষ তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ভোলার উন্নয়নে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চিরনিদ্রায় শায়িত
জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘ফাতেমা খানম’ বৃদ্ধাশ্রমে নেওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় রাখার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়ি—ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। পরে সেখানে শেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জীবদ্দশায় নিজের জন্মভূমির মাটিতে এবং বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁর সেই শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এএম/আরএন