দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারপ্রধান চালু করেছেন ‘পারফরম্যান্স মনিটরিং মেকানিজম’। এর মাধ্যমে নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে মন্ত্রী ও এমপিদের আমলনামা। অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেলে ছাড় নেই কারো। এরই মধ্যে মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হয়েছে তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও।
কিন্তু কেন এই নজরদারি? বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই সতর্কবার্তা। ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, তদবির-বাণিজ্য, কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পে গাফিলতি; জনবিরোধী এমন সব কর্মকাণ্ড ঠেকাতেই জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন তারেক রহমান। বিশেষ করে যারা এলাকায় নিয়মিত থাকছেন না কিংবা প্রশাসনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন, তাদের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ।
এই জবাবদিহির মডেলে কাজ করছে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ‘কোশ্চেন টাইম’ কিংবা ‘সিলেক্ট কমিটি’র আদলে বাংলাদেশেও একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়তে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ সেল। যেখানে অর্থ উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবসহ পদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি তদারকি করছেন মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট।
পর্যবেক্ষণের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, এমপিদের স্থানীয় উন্নয়ন বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, যাতে তারা কোনো অন্যায়ে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ না পান।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যখন মরিয়া, তখন এই শুদ্ধি অভিযান প্রশাসনে কতটা গতি আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এমএ