সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়া, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের শ্যামল, আরফিন ও পারভেজ মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশাগঞ্জ বাজারের একটি জায়গার মালিকানা নিয়ে সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া ও উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় পক্ষই ক্রয়সূত্রে জায়গাটির মালিকানা দাবি করে আসছেন। বিরোধপূর্ণ স্থানে উভয় পক্ষের দোকান রয়েছে এবং ভাড়াটিয়াও বসানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার সকালে আনার মিয়া তার সমর্থকদের নিয়ে বিরোধপূর্ণ স্থানে থাকা দুটি দোকানের মাঝের দেয়াল ভেঙে ফেলেন। এ খবর পেয়ে তাহের উদ্দিন সোনা মিয়ার লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুল হুদা, ওয়াহিদ, আনোয়ার তালুকদার, আনার মিয়া, পারভেজ, নির্মল, আরফিন এবং স্থানীয় সংবাদকর্মী মিঠু মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহত তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া দাবি করেন, “১৯৯৬ সালে আমি ও চকিয়াচাপুর এলাকার এক ব্যক্তি যৌথভাবে জায়গাটি ক্রয় করি। পরে ২০২০ সালে আনার মিয়া ওই জায়গার একটি অংশ কিনে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন। রোববার তার লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং আমাকে ও আমার ছোট ভাই লিটনসহ কয়েকজনকে আহত করে।”
তবে এ বিষয়ে আনার মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি পুলিশের হেফাজতে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদকর্মী মিঠু মিয়া জানান, “উভয় পক্ষের সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করলে আমিও আহত হই।”
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় উভয় পক্ষের কিছু লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে কনস্টেবল মো. গাজিউল, বিপ্লব ও সেলিম আহত হন।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যা বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
সহকারী পুলিশ সুপার (ধর্মপাশা সার্কেল) এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একে/ এসআর