মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি দাবি করেছে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদরের পঞ্চসারে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান এসব তথ্য জানান।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সোর্সের সহায়তায় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত হালিমা আক্তার (১৯) গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজনকে শনাক্ত করা হয়। তারা হলেন আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) ও আলামিন প্রধান (৫০)। গত ৩০ মে গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত কারণে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর হালিমাকে কৌশলে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীসংলগ্ন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে নদী পার করে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএইচএস/ এসআর