যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও ফিফার আসন্ন নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব ধরে রাখার পথে শক্ত অবস্থানেই রয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ২০০টিরও বেশি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে। ফলে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে বিপুল ব্যবধানে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তার পক্ষেই রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি দেশ সমর্থনপত্র পাঠায়নি, যার মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন রয়েছে। বিশেষ করে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) এখনো আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়নি। তবে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ফিফা সভাপতির নির্বাচনে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর। ওই সময়ের আগে সদস্য ফেডারেশনগুলো চাইলে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার বা অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে স্থানান্তর করতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোই একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী।
এদিকে কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, ফিফার ভেতর থেকেই সদস্যদের ওপর ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে তা ফিফার নৈতিকতা বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে। উয়েফা বালোগান ইস্যুর পাশাপাশি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ফিফার সমালোচনা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিপক্ষে কোনো বিকল্প প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের ঘোষণা দেয়নি সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের জন্য ইউরোপের সমর্থন অপরিহার্য নয়। আফ্রিকা, এশিয়া, কনকাকাফ এবং অন্যান্য অঞ্চলের সদস্য ফেডারেশনগুলোর বিপুল সমর্থনই তাকে সহজেই আরেকটি মেয়াদ নিশ্চিত করে দিতে পারে।
এরই মধ্যে শনিবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে ফিফার সদস্য ফেডারেশনগুলোর প্রতিনিধিরা কংগ্রেসে মিলিত হবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ইনফান্তিনো নিজেই। ফলে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং বিশ্বকাপের আর্থিক সাফল্য এবং সেই আয়ের অংশ থেকে সদস্য ফেডারেশনগুলোর প্রাপ্তি নিয়েই আলোচনা বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।