আসন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য ম্যাচ অফিশিয়াল প্যানেল ঘোষণা করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। হাইভোল্টেজ এই ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। রোমাঞ্চকর এই মহারণ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে। শিরোপা প্রত্যাশী আর্জেন্টিনা ও স্পেন—উভয় দলের ম্যাচ পরিচালনারই পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে ৪৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রেফারির। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তিনি একটি বড় অঘটন ও বেদনাদায়ক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের যে ঐতিহাসিক বিপর্যয় ঘটেছিল, সেই ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্বে ছিলেন এই স্লোভেনিয়ান।
ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ফাইনালে প্রধান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের সহকারী হিসেবে মাঠ সামলাবেন তারই স্বদেশি টমাজ ক্লানচনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচ। এ ছাড়া জর্ডানের আদম মাখাদমেহ চতুর্থ অফিশিয়াল এবং মোহাম্মদ আলকালাফ রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১০ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া ভিনচিচ ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের অসংখ্য হাইপ্রোফাইল ম্যাচ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। তার ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারের সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ২০২২ সালের উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনাল (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট বনাম রেঞ্জার্স) এবং ২০২৪ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল (রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বরুসিয়া ডর্টমুন্ড)।
কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনচিচ, যেখানে তিনি দুটি ম্যাচে বাঁশি মুখে নামেন। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করে ফেলেছেন এই স্লোভেনিয়ান। ফলে রোববারের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং চলতি আসরের চতুর্থ অ্যাসাইনমেন্ট। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই মেগা ফাইনালের দায়িত্ব পাওয়াকে ভিনচিচের রেফারিং ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ ভিনচিচের ক্যারিয়ারে তুলনামূলকভাবে কম এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি আলবিসেলেস্তেদের মাত্র একটি ম্যাচই পরিচালনা করেছেন, যা আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচটিতে রেফারি ছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে সৌদি আরব ২-১ গোলে ইতিহাস গড়া জয় তুলে নিয়ে আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। আর্জেন্টিনার হয়ে ভিনচিচের অধীনে সেটিই একমাত্র পরাজয় হলেও, ম্যাচের শুরুতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত কিন্তু মেসি-আলভারেজদের পক্ষেই গিয়েছিল। খেলার সপ্তম মিনিটে কর্নার কিকের সময় লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে টেনে ফেলার অপরাধে ভিনচিচ আর্জেন্টনাকো পেনাল্টি দেন, যা থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন মেসি। এ ছাড়া পুরো ম্যাচে সৌদি আরবের খেলোয়াড়দের ছয়টি হলুদ কার্ড দেখালেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড়কেই কার্ড দেখাননি তিনি।
অন্যদিকে, উয়েফার অন্যতম শীর্ষ রেফারি হওয়ায় স্পেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হয়েছে ভিনচিচের। ২০১৭ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে লা রোজাদের ম্যাচে তার দায়িত্ব পালনের সূচনা হয়। এরপর ইউরো ২০২০-এ সুইডেনের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ এবং ২০২৩ সালে উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন-ইতালির ম্যাচেও তিনি প্রধান রেফারি ছিলেন। তবে সেই ম্যাচগুলো ছিল বর্তমান বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগের ঘটনা। ইয়ামালের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ভিনচিচ এখন পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, যার দুটিই ছিল স্পেনের ইউরো ২০২৪-এর মহাকাব্যিক জয়যাত্রার অংশ। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল গ্রুপপর্বে ইতালির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় এবং দ্বিতীয়টি ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সেমিফাইনালের ঐতিহাসিক জয়, যেখানে কিশোর তারকা ইয়ামাল দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে স্মরণীয় সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন।
এসএ