বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইনের মূল কারণ হলো প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয় এবং অবৈধ মজুতের প্রবণতা।
সোমবার সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি প্রদানের সময় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও গাল্ফ অঞ্চলের উত্তেজনা দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সরবরাহ সচল রেখেছে।
তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এত বিপুল বিক্রয়ের পরও দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।
জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মূল কারণ হলো প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয় এবং অবৈধ মজুতের প্রবণতা। চলতি মার্চে অকটেন বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদ গেট, শাহবাগ ও গুলশান সার্ভিস স্টেশনের কথা উল্লেখ করেন।
সরকার ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৩টি মামলা করেছে বলে সংসদে জানান জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অভিযানের মাধ্যমে দুই লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এপ্রিলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দেশের দুই মাসের চাহিদা মেটাবে।
মন্ত্রী আশ্বাস দেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি এবং জনগণের স্বার্থে বিপুল ভর্তুকি বহন করছে। তিনি জানান, ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৯৮ টাকা। একইভাবে অকটেনের বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা, যেখানে প্রকৃত ব্যয় ১৫০.৭২ টাকা—এভাবে সরকার মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।
সতর্ক করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় বা অবৈধ মজুত এড়াতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় তেল পাচারের তথ্যদাতাদের জন্য সরকার পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে।
জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সবার সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
আরএন