লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চরম আকারে ধারণ করেছে। দুই উপজেলার পাড়া-মহল্লায় প্রায় চার শতাধিক স্পটে সক্রিয় রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের অন্তত কয়েক হাজার সদস্য। প্রায়শই প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে তারা। জড়িয়ে পড়ছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, মারধর, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে। নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সঙ্গে সংঘাতেও জড়াচ্ছে। তাদের এসব অপরাধ ঠেকাতে রীতিমতো নাজেহাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছিনতাই, চুরিসহ পাড়া-মহল্লায় যেকোনো অপরাধ ঘটলেই এখন সবার আগে আসছে কিশোর গ্যাংয়ের নাম। রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক কিশোর গ্যাং স্পট রয়েছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ—মারামারি, ছিনতাই, মাদক সেবন, ইভ টিজিং ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর প্রশ্রয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এরা, প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গ্রুপ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ কমলনগরের চর লরেন্স ইউনিয়নের চুঙ্গারগোড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় তিনজন আহত হন। একই মাসে কয়েকবার করইতলা বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও মহড়া চলে। এছাড়া ১০ এপ্রিল রামগতির চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় ছিদ্দিক নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে আহত করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ২৬ এপ্রিল বড়খেরী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়। সর্বশেষ ১৯ মে আলেকজান্ডার বাজারে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক জহির বলেন, এই সমস্যাটি দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এখনই এদের কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যেকোনো সময় বড় ধরনের খুনাখুনির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, রামগতিতে কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত যে কয়টি অভিযোগ আমরা পেয়েছি, সেগুলোর ব্যাপারে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস নেই। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরএম/আরএন