কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রবাহমান খালে নির্মিত অন্তত ৫৮টি কৃত্রিম বাঁধের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় ভুগছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একই সঙ্গে কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে সরকারি খালের অবৈধ কৃত্রিম বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণে অভিযান শুরু করেছে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ। স্থানীয়দের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও স্বাভাবিক হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় মগনামার মটকাভাঙা খালে নুরুল আলমের নির্মিত একটি বাঁধ অপসারণের মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে আবু তৈয়ব, নুরুল আলম, আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন, হেলাল ও জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নির্মিত মোট ৯টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনালী বাজার-পশ্চিম মটকাভাঙা খাল, রুপাই খালসহ ইউনিয়নের একাধিক সরকারি খালে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইসগেটে অবৈধ জাল বসিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে রেখেছিল। ফলে মটকাভাঙা, বাইন্যাঘোনা, পশ্চিম মটকাভাঙা, দরদরিঘেনা, ধারিয়াখালী, আবদুল্লাহপাড়া, মগঘোনা, মুহুরীপাড়া, কোদাইলাদিয়া ও রঙিনখালের পূর্বকূলসহ আশপাশের এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত ২০টি মৎস্যঘেরের মাছ ভেসে যায়। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গত ১৮ জুলাই বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে পেকুয়া-চকরিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি খালের সব অবৈধ বাঁধ অপসারণে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারি খালে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সব অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেটের জাল পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হচ্ছে। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।”
অভিযান চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম, গণমাধ্যমকর্মী, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বছরের পর বছর অবৈধ বাঁধের কারণে তারা পানিবন্দী জীবন কাটিয়েছেন। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অবৈধ বাঁধ অপসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা দ্রুত বাকি বাঁধগুলোও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এনইউ/আরএন