ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদেও তারা বিক্ষোভ জানান।
মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এনডিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে বিকেল পাঁচটার দিকেও তাদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’
সোমবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত ওই মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
দ্য হিন্দু জানায়, মঙ্গলবার বিকেলেও যন্তর-মন্তরের আশপাশে শত শত মানুষ জড়ো হন এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সকালে পুলিশ জানিয়েছিল, ওই এলাকায় এখনও ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে।
পুলিশের হামলায় আহতদের দেখতে মঙ্গলবার সকালে দিল্লির একটি হাসপাতালে যান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় এক ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সকালে এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে তিনি এমপিদের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের উদ্বেগ দূর করার আহ্বান জানান। উপস্থিত সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বিরোধীদের ‘ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আরএন