টানা বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে পানি জমে শাক-সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে সবজির দাম। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে আদমদীঘি উপজেলা সদরের হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি থাকলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে সান্তাহার রাধাকান্ত হাট, ছাতিয়ানগ্রাম, নশরতপুর, কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর হাটে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে আলু ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, পটল ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং বেগুন ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পালং, কলমি, লাল, পুঁই ও পাট শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, “সবজির দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশ চাল কিনতেই চলে যায়, বেশি দামে সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।”
সবজি ব্যবসায়ী আলীবর ও আজিজুল জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে শাক-সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
তবে বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, উৎপাদন এলাকায় ক্ষতির কারণে পাইকারি দামে প্রভাব পড়ায় খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএইচকেএস/এসআর