দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই)-এর নির্বাচন আবারও আইনি জটিলতায় পড়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশে নির্বাচনের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৭ জুলাই মেসার্স বদরুল স-মিলের স্বত্বাধিকারী এম. বদরুল আনাম খানের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। রিটে খুলনা চেম্বারের ৮৯৮ জন নতুন সদস্যের অনুমোদন, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচন বোর্ড গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খুলনা চেম্বারের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালত আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে বিবাদীদের এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটকারী এম. বদরুল আনাম খানও এবারের নির্বাচনে পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সভাপতি প্রার্থী তরিকুল ইসলাম জহিরের প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষরা অনেক লোককে নতুন ভোটার করেছে, এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করা হয়েছে।”
আদালতের আদেশের ফলে নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
খুলনা চেম্বার নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. শাহীমুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় খুলনার ব্যবসায়ী মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করলেও আইনি জটিলতার কারণে তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন চেম্বারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনা চেম্বারের প্রশাসক ও খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বলেন, “আমরা আদালতের আদেশের কপি পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে ব্যাখ্যা জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী কোনো আদেশ না এলে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।”
এসএমএস/এসআর