জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদের শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনো কাজই সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়মিত উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অনেক সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আলোচনার সময়ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন না, যা সংসদের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এ বিষয়ে স্পিকার চিফ হুইপকে মন্ত্রীদের সংসদে নিয়মিত উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানান।
অধিবেশনে মন্ত্রীদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতিঅধিবেশন শুরুতে কয়েকজন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও পরে ধাপে ধাপে তারা যোগ দেন। সরকারের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় প্রধানমন্ত্রীও বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
সংসদে শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষঅধিবেশন চলাকালে সদস্যদের ছোট ছোট দলে আলোচনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এতে সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জবাবে স্পিকার বলেন, সদস্যদের গ্রুপ আলোচনার প্রবণতা এড়িয়ে সংসদ কার্যক্রমে মনোযোগী হতে হবে।
মির্জা আব্বাসসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাঅধিবেশনে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। স্পিকার জানান, তিনি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং সুস্থ হলে তিনি সংসদে যোগ দেবেন।
স্পিকার আরও বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয় ও গুজব সংসদের আলোচ্য বিষয় নয়।
চা বাগানের ঝুঁকি নিয়ে তথ্যসংসদে জানানো হয়, শ্রম অসন্তোষ ও বকেয়া মজুরি সমস্যার কারণে ৩১টি চা বাগানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তারাপুর, পাত্রখোলা, লাক্কাতুরা, দেউন্দি, রাজনগরসহ বিভিন্ন বাগান।
সরকারের উদ্যোগে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ, বাগান পুনরায় চালু এবং শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
-টিএস