দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে আটটিতে মেয়র প্রার্থী প্রাথমিক ভাবে চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে।
তবে এই প্রার্থীদের নাম দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরায় চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ওইদিন সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হওয়া এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া এ বৈঠকে দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম)।
প্রাথমিক ভাবে চূড়ান্ত হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খান, খুলনায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর শাখার আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এসব পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আলোচনায় আছেন। তাদের বিষয়ে জামায়াত আরও পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানিয়েছে, দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তে পুশ ইন ইস্যু, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়া, ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, 'নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে জামায়াতের বার্ষিক সাংগঠনিক রিপোর্ট-২০২৫ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংসদীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
এমএ