📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের আশঙ্কা, বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
X Advertisement

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গত দুই-তিন দিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী হাজারো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মাইকিং কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

গত রোববার ও সোমবার টেকনাফ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার, পানিবন্দি নিম্নাঞ্চল

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানিয়েছে, ২১ জুন রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ২২ জুন সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া এবং সদর ইউনিয়নের উত্তর লেঙ্গুরবিল ও মিঠাপানির ছড়া এলাকার পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে শুধু পাহাড়ধসের আশঙ্কাই নয়, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোও প্লাবিত হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানান, পাহাড়ের ঢালে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারী লোকজনকে সরিয়ে নিতে বনকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানিয়েছেন।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল রঙ্গিখালী, সুলিচপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও লামারপাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল বলেন, ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ইউনিয়নে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়েছে।

প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।


টিএন/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: online@dailyobserverbd.com mailobserverbd@gmail.com
🔝