📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সুন্দরবনে নতুন বিপর্যয়: পরগাছার থাবায় আক্রান্ত ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
X Advertisement

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী এখন ভয়াবহ সংকটে। আগামরা (টপ ডাইং) রোগের পর এবার পরগাছার ব্যাপক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বনাঞ্চল। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ পরগাছায় আক্রান্ত। এরই মধ্যে অনেক গাছ শুকিয়ে মারা গেছে।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সুন্দরী গাছের কাণ্ড ও ডালপালাজুড়ে ঘনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পরগাছা। এই পরজীবী উদ্ভিদ মূল গাছ থেকে পুষ্টি শোষণ করে ধীরে ধীরে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। একপর্যায়ে পাতা ঝরে গিয়ে গাছটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে মারা যায়।

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ও খাল ভরাট এবং পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর সঙ্গে আগামরা রোগের পাশাপাশি পরগাছার বিস্তার যুক্ত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় ভোলা নদীর প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বনের ভেতরের বিস্তীর্ণ এলাকার খালগুলোতে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জোয়ার-ভাটার পানি না পাওয়ায় সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল শুকিয়ে যাচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়া এসব গাছেই পরজীবীর আক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

২০২০–২১ সাল থেকে এসব এলাকায় সুন্দরী গাছে পরগাছার আক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে তুলনামূলক উঁচু এলাকায় এ সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগামরা রোগের প্রভাবও আগে থেকেই রয়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর আয়তনের পূর্ব সুন্দরবনে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৪৫৩ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এই বনকে কেন্দ্র করে মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, কাঁকড়া আহরণ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক লাখ মানুষ। ফলে সুন্দরী গাছের অবক্ষয় সরাসরি উপকূলীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আগামরা রোগ ও পরগাছার কারণে সুন্দরী গাছের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রতিবেশব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরগাছা নিয়ন্ত্রণ, লবণাক্ততা মোকাবিলা এবং নদী-খাল পুনঃখননের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরীকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “পরগাছা এখন সুন্দরী গাছের জন্য বড় হুমকি। ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গাছে এর আক্রমণ দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।”

এএ/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: online@dailyobserverbd.com mailobserverbd@gmail.com
🔝