মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, উজানে নদী সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে যশোরে পদযাত্রা করেছে মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সংগঠনটির উদ্যোগে পুলেরহাট থেকে দড়াটানা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা “মুক্তেশ্বরী বাঁচাও”, “নদী দখলমুক্ত করো” ও “দখলদারদের শাস্তি চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে মুক্তেশ্বরী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে হরিনার বিল, এড়োলের বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যশোর শহর ও সেনানিবাস এলাকার কিছু অংশেও জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে।
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, শুধু চাঁচড়া ইউনিয়ন এলাকাতেই প্রায় ২০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি মুক্তেশ্বরী নদীর জমি দখল করে রেখেছেন। এছাড়া আদ-দ্বীন হাসপাতালের একটি অংশ নদীর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
পদযাত্রা শুরুর আগে পুলেরহাটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদ খান, জিল্লুর রহমান ভিটু এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ। এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
পদযাত্রা শেষে দড়াটানায় আয়োজিত সমাবেশে অনিল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং জিল্লুর রহমান ভিটুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উদীচীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, যশোর ইনস্টিটিউটের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ভৈরব আন্দোলনের নেতা হাসিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস ও রাশেদ খান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে মুক্তেশ্বরীর পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে খনন করা খালটি বর্তমানে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ওই খালের জমি দখল করে নিয়েছে। এছাড়া মুক্তেশ্বরী নদীর একটি অংশ প্লট আকারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নদী দখল ও সংকোচনের কারণে এড়োলের বিলসহ হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মুক্তেশ্বরী ও ভৈরব নদীর উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসকেআর/এসআর