আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামলেই বিশ্বের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ক্লাবে প্রবেশ করবেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই মহাতারকার ক্যারিয়ারে এটি হবে আরেকটি বিশেষ সংযোজন।
ফিফা সূচি অনুযায়ী, আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই ম্যাচে অংশ নিলেই মেসি ছুঁয়ে ফেলবেন দুই শত আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক, যেখানে এর আগে জায়গা করে নিয়েছেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন কিংবদন্তি।
২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় মেসির। সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ২৫ মিনিট খেলেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে—একটি অদ্ভুত শুরু, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় ইতিহাস গড়ার দীর্ঘ যাত্রায়। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি খেলেছেন ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, মাঠে কাটিয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার ৩৮০ মিনিট। এই সময়ে করেছেন ১১৭ গোল এবং ৬৪টি গোল করতে সহায়তা।
ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় উত্থান-পতনের গল্পও কম নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, একাধিক কোপা আমেরিকার ফাইনালে হৃদয়ভাঙা পরাজয়—সবকিছুই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পরবর্তীতে আরও দুটি কোপা আমেরিকা জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন তিনি।
আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি বিশ্ব ফুটবলে অনন্য এক অধ্যায় তৈরি করেছেন। ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রায় সব অর্জনই তার ঝুলিতে থাকলেও এখনো একটি লক্ষ্য অপূর্ণ—বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। কাতার বিশ্বকাপে ৭ গোল করা এই ফরোয়ার্ড এখনও সেই স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বপ্রথম ২০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০২৩ সালের জুনে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। এরপর কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া এই তালিকায় যুক্ত হন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বিশ্বকাপ চক্রে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মডরিচেরও এই অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করতে পারেন, যিনি এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৯৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামা মেসির সামনে এখন শুধু রেকর্ড নয়, প্রতিটি ম্যাচই যেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। ২০০তম ম্যাচ তাই কেবল একটি সংখ্যা নয়—এটি এক কিংবদন্তির দীর্ঘ যাত্রার আরেকটি স্মরণীয় চিহ্ন।
আরএন