আজ ১৪ জুন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জবাসীর জন্য এক বেদনাবিধুর দিন। ঐতিহাসিক মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ২৯তম বার্ষিকী। ১৯৯৭ সালের এই দিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, চা-বাগান, রেলপথ ও পরিবেশ-প্রতিবেশ। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
১৯৯৭ সালের ১৪ জুন কমলগঞ্জের মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে ড্রিলিং চলাকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের আগুন কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকে এবং এর তাপে আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, চা-বাগান, খাসিয়া জুম ও জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশবিদদের তথ্যমতে, এ ঘটনায় অন্তত ৬৩ প্রজাতির পশুপাখি বিলুপ্ত বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ১৬৩ দিন বন্ধ ছিল।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল পরবর্তীতে মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে ইউনিকল এবং পরে শেভরনের কাছে গ্যাসক্ষেত্র বিক্রি করে। ক্ষয়ক্ষতির আংশিক অর্থ পরিশোধ করা হলেও বন বিভাগের ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ এখনো আদায় হয়নি। বিভিন্ন সময়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সরকারি পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির তালিকা ও তদন্ত প্রতিবেদন আজও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, মাগুরছড়া ট্র্যাজেডিতে প্রাকৃতিক বনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পুরোপুরি পুষিয়ে ওঠার নয়। বন বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি।
মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জির বাসিন্দা জিডিসন প্রধান সুচিয়াং বলেন, এই দুর্ঘটনায় বন ও জীববৈচিত্র্যের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল স্থানীয় বাসিন্দারাই উপলব্ধি করতে পারেন।
বর্তমানে বিস্ফোরণস্থলের কিছু অংশে সবুজায়ন করা হলেও মূল কূপটি এখনো দুর্ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে। চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক অংশ এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন ক্ষতিপূরণ আদায়, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর পূর্তিতে স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন দেশের অন্যতম বড় পরিবেশ বিপর্যয়ের দায় ও ক্ষতিপূরণের বিচার আর কতদিন অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকবে?
এসএস/এসআর