
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এটিকে বাংলাদেশের পুলিশের নয়, বরং ইন্টারপোলের কৃতিত্ব বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান।
রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “বেনজীরকে আটক করা দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটি ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করেনি।”
তবে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এখন তাকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৭ বছর পর একটা অর্থবহ নির্বাচন হবে, জাতি আশা করেছিল। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, নির্বাচন খুব সুন্দর হয়েছিল, কিন্তু ফলাফলটা সুন্দর হয়নি। ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক কিছু করা হয়েছে, এটা অনেকে এখন স্বাকীর করছেন। তারপরও আপনাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে, আমরা কেন ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা মেনে নিয়েছি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘দুনিয়ার যে সমস্ত জায়গায় একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেই জায়গা থেকে তারা আর বের হতে পারছে না। আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করতাম, আমাদের আশঙ্কা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো। এটা এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যেত, তা আল্লাহ জানেন। এটা আমাদের আশঙ্কা, এটা না-ও হতে পারত।’
সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা চলছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই-দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কি? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপস করব না।’
সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।’ সরকারি দল ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতিকে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভালো থাকবে। নির্বাচন ভালো হলেই শাসক ভালো হবে, এর প্রমাণ নেই।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে অনেক কিছু ওয়েভার এসেছে। দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না, এই দুটি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ নেই বাজেটে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এ দেশে এক কোটি মানুষ ট্যাক্স দেওয়ার মতো আছেন, তাহলে শুধু ৩৪ লাখ কেন?’
গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণকাজ স্থগিত করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘উসকানির সৃষ্টি হয়, এমন কোনো কাজ আমরা মেনে নেব না। সেটা যদি মুসলমানেরা করে, তা-ও মেনে নেব না। অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেব না। এ দেশ আমাদের সবার। যেটা করলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা হয়, সেটা করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
এসআর