মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত আরএফসি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে ১৬ জন খাদ্য বিষক্রিয়ায় (ফুড পয়জনিং) আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে একই পরিবারের চারজনসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ রয়েছেন। সবাইকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল থেকে অসুস্থতা শুরু হয় এবং রাত ৯টা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন। পরে মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গুরুতর অবস্থায় থাকা দুই কিশোরী সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তার (১৫)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্তদের তালিকায় রয়েছেন—হাফসা আক্তার (১৮), জান্নাত (১২), ফাতেমা বেগম (১৪), জেসমনি আক্তার (৩৫), কুতুবউদ্দিন (৪৫), রোকসানা বেগম (৪০), নাবিল মাহমুদ (১১), রাবিক হোসেন (২২), ইব্রাহীম (১৮), তানিয়া (২৩), লুবনা আক্তার (২৫), আমির হাওলাদার (৯), শাওন ঘরামী (১৮) এবং সাইফ হোসেন (১৫)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও বাসি খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রেস্টুরেন্টটিকে জরিমানা করেছিল। তবে এরপরও মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য পরিবেশন না করায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়েছি। আক্রান্তদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেব। আমাদের খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, “ফুড পয়জনিংয়ের কারণে বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং রেস্টুরেন্ট পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরীক্ষার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এএইচএস/ এসআর