শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ১ নম্বর কাংশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রস্তাবনা বাতিল ও ইউনিয়ন ভবন মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইগাতী-রাংটিয়া সড়কে উপজেলা পরিষদের সামনে কাংশা ইউনিয়নের সর্বস্তরের বাসিন্দাবৃন্দ ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ইউনিয়নের বাকাকুড়া, নওকুচি, গান্ধীগাঁও, কাংশা, দুধনই, গজনী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হাসিন আরমান মাসুদ।
মানববন্ধনে ৯ ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও আপন শিক্ষা পরিবারের পরিচালক মো. রহমত আলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মো. গোলাপ হোসেন, মো. এনামুল কবির মানিক, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আরেফিন সোহাগ, বাকাকুড়া এলাকার মো. মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, গান্ধীগাঁও এলাকার বাসিন্দা মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান, মো. লুৎফর রহমান লাজু, মো. কমল মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এমন স্থানে নির্মাণ করা উচিত, যেখানে ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডের মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারেন। মধ্যবর্তী স্থানে ভবন নির্মাণ করা হলে সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের সময়, খরচ ও দুর্ভোগ কমবে।
ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান ও জনস্বার্থ বিবেচনায় পরিষদ ভবনের প্রস্তাবনা বাতিল করে কেন্দ্রীয় স্থানে নির্মাণ করা অত্যন্ত যৌক্তিক। জনগণের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এর আগে গত ২০ মে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগ শেরপুরের উপপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদনও প্রদান করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন, 'পরিষদ ভবনটি কেন্দ্রীয় স্থানে নির্মাণের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। তবে মধ্যবর্তী স্থানে পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্যে প্রয়োজনীয় জমিসহ আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মধ্যবর্তী স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করলে আমার কোনো আপত্তি নেই।'
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, 'কাংশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণের দাবির বিষয়টি আজকেই জানলাম। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, 'বিষয়টি তিনি জানেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
জেএইচ/এমএ