ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
যুবদল নেতাসহ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীর বাড়ি ফিরতে ভয়
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম
X
Advertisement

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর ওই নারী আতঙ্কে নিজ বাড়ি ফিরতে পারছেন না। ভয় পাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে স্বামী ও সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন। 

এ ঘটনায় পুলিশ এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক রয়েছে অজ্ঞাত আরেকজন অভিযুক্ত।

পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী পরিবার তাদের বাড়িতে ফিরতে চাইলে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে মামলার পর সন্ধ্যায় পুলিশ এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পলাতক অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) ও তার সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই দম্পতি। গত বুধবার বিকেলে রাজমিস্ত্রি স্বামী কর্মস্থলে থাকাকালে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই শিশুসন্তানের সামনেই ভাড়া বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে শহীদ ও তার দুই সহযোগী মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মিমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেন ৩৩ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, তার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে। স্বামী ওইদিন কাজের সুবাদে ঘরের বাহিরে ছিলেন। এ সুযোগে তার বাড়িতে ঢুকে দুই শিশু সন্তানের সামনে মুখ চেপে ধরে রান্নাঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত তিনজন। ধর্ষণের ঘটনার তিনদিন পর শনিবার বিকেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়িতে ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান। আতংকে রয়েছেন তিনি। 

ওই নারীর স্বামী বলেন, এলাকার লোকজন বিষয়টি মিমাংসার জন্য বলেছিল। এখন তো আমি মামলা করছি, তারা গ্রেপ্তারও হইছে। এখন এলাকায় গেলেই সমস্যায় পড়তে হবে। আবার পুলিশের যারা আমারে ডাক্তারের কাছে নিয়া আসছে তারাও এলাকায় ফিরতে না করছেন। বলছেন, বাপের বাড়ি বা শশুরবাড়ি গিয়ে থাকতে। তাদের তো কিছু জানাই নাই। এখন কই যামু বুঝতে না পাইরা হাসপাতালেই ভর্তি হইছি। ফলে কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

তবে সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরপরই আমার দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা নির্ভয়ে ওই গ্রামে থাকতে পারবেন, তাদের নিরাপত্তা পুলিশ দেবে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যদিও তারা আতঙ্কের বিষয়টি আমাদেরকে এখনো জানান নি।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি কোনো ধরনের হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ জানায়, তাহলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি পুলিশের কোনো সদস্যের আচরণে তারা বিব্রত হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এইচএমআর/এসআর
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement