জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট। উইকেটে অপরাজিত ছিলেন ১৪৯ রানে থাকা ওপেনার কুপার কোনোলি। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচটি সহজেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানের আঘাতে মাত্র ৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যাডাম জাম্পার বাউন্ডারিতে ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। ফলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল অস্ট্রেলিয়া, যদিও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে জোড়া উইকেট নিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। জশ ইংলিস ২১ ও ম্যাট রেনশ শূন্য রানে ফিরলেও ওপেনার কুপার কোনোলি একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেন।
অ্যালেক্স ক্যারি (৮) ও মার্নাস লাবুশানে (৩১) দ্রুত ফিরলেও কোনোলির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার রান এগোতে থাকে। ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন তিনি। গ্রিন ৩৫ রান করার পর শেখ মেহেদীর বলে আউট হন।
এরপরও থামেননি কোনোলি। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ১৫৪ বলে ১৪৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও ছক্কার মার।
অস্ট্রেলিয়া যখন জয় থেকে মাত্র ৯ রান দূরে, তখনই ম্যাচে নাটকীয় মোড় আসে। ৪৬তম ওভারে শরিফুল ইসলাম পরপর দুই উইকেট তুলে নেন। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি। শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমান ১৪৯ রানে থাকা কোনোলিকে বোল্ড করলে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়।
শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩ রান। তাসকিন আহমেদের করা ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন অ্যাডাম জাম্পা।
বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ৬ উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। পরে তানজিদ হাসান তামিম (১৯) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৪) ফিরলেও লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।
চোটে পড়ে অবসর নেওয়ার আগে লিটন ৪৮ রান করেন। এরপর মাঠে ফিরে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৮ বলে ৮৩ রানের চমৎকার ইনিংস।
মোসাদ্দেক হোসেনও শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নেন। তার কার্যকর ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জাভিয়ের বার্টলেট ও ম্যাট রেনশ দুটি করে উইকেট নেন।
ম্যাচে হারলেও সিরিজ জয়ের হাসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মুখেই ছিল। তবে শেষ ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস লড়াই ক্রিকেটপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে এক স্মরণীয় সমাপ্তি।
এসআর