খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুব শিগগিরই নগরীর সলুয়ায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু করা হবে। দেশের মধ্যে এ ধরনের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প প্রথমবারের মতো খুলনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
শনিবার দুপুরে সলুয়ায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কেসিসি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশ সরকার, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), এলজিইডি এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করতে এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে বাড়ি থেকে পৃথকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে রাতের মধ্যেই রিসাইক্লিং কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ সফল হলে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
কেসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্লান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাবে। তবে আগামী ১ জুলাই থেকে প্লান্টের একটি অংশে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির অর্থায়নে এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়িত ‘দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কুয়েট অ্যাপ্রোচ রোড’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট কনসার্নের সঙ্গে চুক্তির প্রাথমিক আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা প্লান্টটির অগ্রগতি ও বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হামিদুল হক, টিম লিডার মো. শফিকুর রহমান, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএমএস/এসআর