কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৪৭) ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাত জেগে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বাধীন দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কোনো পুশইন প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সীমান্তে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। পুশইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে।”
তিনি জানান, শনিবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েক দিন আগে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়েও পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কিছু দালাল চক্র জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বিজিবি অধিনায়ক।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি আরও বলেন, “সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।”
তিনি বলেন, “এ সময় সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিজিবির টহল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”
এসআই/এসআর