‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় সুন্দরবনে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্য আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদারকে (৪৫) আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় পরিচালিত অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ আটক করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ জুন (বুধবার) বিকেল ৩টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল তাদের ধাওয়া করে। এ সময় ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১টি টেলিস্কোপ, ১টি সোলার প্যানেল, ১টি ব্যাটারি, ১টি ওয়াকিটকি চার্জার, ১টি শিংসহ হরিণের মাথা, ৩ কার্টন সিগারেট, ২ বস্তা চাল এবং ১টি কাঠের নৌকাসহ করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় করিম শরীফ বাহিনীর ব্যবহৃত ১টি আস্তানা ধ্বংস করা হয়।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের সমন্বয়ে মোরেলগঞ্জ থানাধীন পি.সি. বাড়ইখালী সংলগ্ন এলাকায় তার বাড়িতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার (৪৫) বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন।
উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএস/আরএন