Sunday | 7 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Sunday | 7 June 2026 | Epaper
BREAKING: সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ ৪ জন আটক, কারাগারে প্রেরণ      মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর       হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু      ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল      ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      পুশইনের আরও ৮ চেষ্টা প্রতিহতের দাবি বিজিবির      যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা      

রামিসার জন্য বিচার, না কি শুধু রায়!

প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ এএম   (ভিজিট : ৩২)

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার শেষে রায় ঘোষণা হয়েছে। একটি শিশুকে ঘিরে সংঘটিত নৃশংস এই অপরাধের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তবে রায় ঘোষণার পর নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন বিচার কি শুধু রায় ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি এর পরেও বাকি থাকে দীর্ঘ আইনি পথ?

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় আলোচিত অনেক মামলায় দ্রুত রায় হলেও তা কার্যকর হতে বছরের পর বছর সময় লেগেছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে থাকে, তেমনি সমাজও কাঙ্ক্ষিত বার্তা থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারণে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে আলোচনা এখন শুধু আদালতের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নেই; বরং নজর রয়েছে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকেও।

আইনজীবীরা বলছেন, মৃত্যুদণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণার পরও একটি ফৌজদারি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি, পরে আপিল বিভাগে বিচার, রিভিউ আবেদন এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগসহ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীর মতে, দ্রুত রায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা গড়ে ওঠে তখনই, যখন রায়ের বাস্তবায়নও দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত হয়। তাঁদের ভাষ্য, ন্যায়বিচারের প্রকৃত অর্থ শুধু অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে মানুষ বিশ্বাস করতে পারে যে অপরাধের পরিণতি অবধারিত।

তবে আইনি আলোচনা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। যে শিশুকে ঘিরে ছিল অসংখ্য স্বপ্ন, যে শিশুর হাসিতে মুখর ছিল একটি পরিবার, সেই রামিসা আর ফিরে আসবে না। হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকা, লাশ উদ্ধারের ঘটনা এবং স্বজনদের আহাজারি এখনো মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে আছে। বিশেষ করে সন্তানের মৃত্যুতে বাবার অসহায় আর্তনাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, রামিসা হত্যা মামলা শুধু একটি ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি নয়; এটি দেশের বিচারব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দ্রুত রায় যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি এখন নজর থাকবে পরবর্তী আইনি ধাপগুলো কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয় তার ওপর।

তাঁদের মতে, এই মামলায় একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা গেলে তা ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই শুধু রায় নয়, বিচারও যেন সম্পূর্ণ হয়। ন্যায়বিচার তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা আদালতের কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবেও প্রতিষ্ঠিত হয়।




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close